Agaminews
Dr. Neem Hakim

সিলেটের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট


audhamyabangla প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৫, ৮:২৪ অপরাহ্ন / ২৭২
সিলেটের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট

আনাস হাবিব কলিন্স, সিলেট থেকে:  চিকিৎসক সংকটে ভুগছে সিলেট বিভাগের সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসকের অভাবে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলাভিত্তিক স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোর ৫৮ শতাংশ চিকিৎসকের পদই ফাঁকা। সবচেয়ে বেশি পদ শূন্যমৌলভীবাজার জেলায়।জানা গেছে, সিলেট বিভাগে ৩৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৩টি ২০ শয্যার হাসপাতাল, ৮৫টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স, টেকনেশিয়ানের গুরুতর সংকট। ফলে কাঙি্খত সেবা না পেয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটছেন রোগীরা। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় সকল কর্মচারীর বিরুদ্ধেই রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে না থাকতে চাওয়ার অভিযোগ।  সে হিসেবে অর্ধেকেরও কম চিকিৎসক নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। এমনি এক চিত্র ফুটে উঠেছে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। ১৬টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে কাগজে কলমে ২ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার থাকলেও ১ জন সিলেট ওসমানী হাসপাতালে কর্মরত। বেতন ভাতা নিচ্ছেন কানাইঘাট হাসপাতাল থেকে।কানাইঘাটের তিনলাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছেন একজন মাত্র চিকিৎসক।এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেট চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি এড. ইরফানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সারা দেশের মতো সিলেট অঞ্চলেও করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। এই অবস্থায় সিলেটে চিকিৎসক সংকট সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।। তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট পদগুলো দ্রুত পূরণের দাবি জানান তিনি। সেই সাথে উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক স্বাস্থ্যসেবা দান নিশ্চিতে মণিটরিং জোরদারের তাগিদ দেন। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় চিকিৎসক কম হলেও যারাই কর্মরত রয়েছেন তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে সংকট মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায় স্বাস্থ্য কমপেক্সগুলোর জনবল সংকট অনেক পুরনো সমস্যা। এ কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। অনেক স্থানে আবার কোনো বিশেষজ্ঞ নেই।জুনিয়র চিকিৎসকরা তাই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও রোগীদের জেলা সদরহাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ফলে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবসময়ই সক্ষমতার অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে  চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
ধর্মপাশার ভুক্তভোগী রোগী হারিছ মিয়া জানান, বুকের ব্যাথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে ডাক্তার তাকে ভাল করে না দেখেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ স্থানীয় চিকিৎসক আন্তরিক হলে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে পারতেন বলে জানান।এমনই অভিযোগ করেছেন তাহিরপুরের দিপালী বেগম। তিনি জানান,ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মেয়েকে অপারেশন করিয়ে বাড়িতে নেয়ার পর জটিলতা দেখা দেয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। কিন্ত চিকিৎসক একটা ওষুধ লিখে দিয়ে পুনরায় ওসমানীতে প্রেরণ করেছেন যা তার জন্য মানসিক ও আর্থিক হয়রানির শামিল ।বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চার জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে ৫২৬টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন২২৫ জন। সিলেট জেলায় ১৭১ পদের বিপরীতে কর্মরত ১০২ জন, সুনামগঞ্জে ১৩৩ জনের বিপরীতে ৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১১৯ জনের বিপরীতে ৪৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ১০৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন চিকিৎসক। উপজেলা পর্যায়ে জুনিয়র কনসালটেন্ট এর ২৪১টি মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১১০ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৮৬ জনের মধ্যে ৪৫ জন,সুনামগঞ্জে ৬১ জনের মধ্যে ১৮ জন, হবিগঞ্জে ৫৪ জনের মধ্যে ২২ জন এবংমৌলভীবাজারে ৪০ জনের মধ্যে ২৫ জন কর্মরত আছেন।
এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান,বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষা চলছে। বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশকৃতরা পদায়ন হলে চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।কানাইঘাটবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে গতকাল রোববার আরো একজন চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর