Agaminews
Dr. Neem Hakim

ভবানীপুরের সচিবের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ


audhamyabangla প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৫, ৬:৪৪ অপরাহ্ন / ২৮৪
ভবানীপুরের সচিবের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
কানিহারী ইউনিয়ন থেকে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন প্রদানের অভিযোগে বদলী হওয়া কানিহারী ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বর্তমানে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা) আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে এবার সরকারী প্রকল্পের কাজ করিয়ে বিল পরিশোধ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও প্রকল্পের কাজে ভূয়া ও অতিরিক্ত টাকার ভাউচার তৈরী করে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে ভূক্তভোগী শাহজালাল ওরফে শাহু লিখিত অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয়
কমিশনার, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে।
লিখিত অভিযোগ সূত্র জানায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা-নগদ
অর্থ) কর্মসূচীর আওতায় ১ম ও ২য় পর্যায়ের উপজেলা ভিত্তিক গৃহীত প্রকল্পের আওতায় ত্রিশাল উপজেলার
কানিহারী ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পের রাস্তা সংস্কারে মাটি ভরাটের কাজ দেন স্থানীয় বিএনপিনেতা ও
ভেকু ব্যবসায়ী মোঃ শাহজালাল ওরফে শাহু কে। কাজ শুরু করার পর থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র ভেকুর তেল খরচ
বাবদ চার লাখ ৯৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তৎকালিন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ।
ভেকু মালিক ও কাজের হিসাব অনুযায়ী ছয় লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা
আব্দুল লতিফের কাছে।
প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে শুরু করে শেষ হয় চলতি বছরের মে/২৫ মাসের শেষের দিকে।
ভেকুর তেল বাবাদ তিন লাখ উনত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করে বাকি টাকা পরিশোধ করতে শুরু করেন
টালবাহানা। আজ নয় কাল টাকা দেয় দিচ্ছি করে শুধু তারিখ পরিবর্তন করে ঘুরাতে থাকেন। উপায়ান্তর না
দেখে আব্দুল লতিফের কাছ থেকে কৌশলে টাকা আদায়ের জন্য তাঁর মাধ্যমে বিশ হাজার ইট নিয়ে নেন
ভেকু মালিক। এর পর থেকে আব্দুল লতিফ শুধু বলতে থাকেন যে, এখনো বিল হয়নি, বিল পায়নি। প্রকল্পের
টাকা পেলে দিয়ে দিবো। বিশ্বস্তসূত্রে জানতে পারি যে, তিনি সকল প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন।
পরবর্তীতে আরো জানতে পারি যে আব্দুল লতিফকে কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বদলী করা হয় ফুলবাড়ীয়া
উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদে। এরপর থেকে সকল যোগাযোগ তিনি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।
কানিহারী বহুলাকান্দা শাহা আলমের দোকানের মোড় হতে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের
সভাপতি ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান জানান, এ প্রকল্পে বরাদ্ধ ছিল চার লক্ষ টাকা। আমি প্রকল্প
চেয়ারম্যান হলেও কোন চেক পাইনি। সচিব আঃ লতিফ ত্রিশাল খবর দিয়ে নিয়ে এসে প্রকল্প রেডি
করার কথা বলে পিআইও অফিসে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে ডিলার মোস্তাকের অফিসে নিয়ে আবার
একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। এরপর থেকে সচিব আর কোন কথা বা কাজের খোঁজ দেননি। হঠাৎ করে
একদিন একটি ভেকু এসে রাস্তায় মাটি কাটার কাজ শুরু করে। সচিব আঃ লতিফ চেক উত্তোলন করে
নিজের মতো করে প্রকল্পের কাজ করিয়েছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই রাস্তায় ভেকু দিয়ে ৬৯ঘন্টা কাজ করিয়েছেন। যার খরচ এক লাখ চব্বিশ হাজার টাকা। চার লক্ষ টাকার প্রকল্প সোয়া লক্ষ টাকা দিয়ে শেষ করে বাকি টাকা সচিব আত্মসাত করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে বদলী হওয়া কানিহারী ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বর্তমানে ফুলবাড়ীয়া
উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা) আব্দুল লতিফ কে বার বার ফোন দিলেও রিসিভ
করেন নি।কানিহারী ইউপি প্রশাসক মুশফিকুর রহমান জানান, সচিব বদলী হওয়ার পর ওই ভেকুর মালিক বিষয়টি
আমাকে জানিয়েছেন। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আব্দুল লতিফের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী জানান, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি যাহা
যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর