চুপিসারে বিদায় নিলেন দক্ষিণ এশিয়া রাজনৈতিক ঝড় তোলা ডোনাল্ড লু
audhamyabangla
প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৬, ২০২৫, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ /
৭১৫
নিউজ ডেক্সঃ দক্ষিন এশিয়ায় মার্কিন কূটনীতির ঝানু খেলোয়াড় ডোনাল্ড লুর চুপিসারে বিদায় নিলেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম আলোচিত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত ছিলেন ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ট্রাম্প আসার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে চলে গেছেন এই ঝানু কূটনীতিক।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ডোনাল্ড লুর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি শেষ হয়েছে এবং তিনি পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লু তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে সরানো হয়নি।
ডোনাল্ড লু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল পরিচিত মুখ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে ও পরে ডোনাল্ড লু দুই দফায় বাংলাদেশ সফর করেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে ‘সরকার পতনের কারিগর’ হিসেবে পরিচিত এই মার্কিন কূটনীতিকের বাংলাদেশ সফরের পরপরই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়।
গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সফরে আসেন ডোনাল্ড লু। ডোনাল্ড লুর সেই সফরের আগে, জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ২০২৩ সালে ২২ সেপ্টেম্বর। ওই নিষেধাজ্ঞা ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যারা বাধা হবেন, তাদের জন্য। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব-পুলিশের ১০ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে জানুয়ারিতে ডোনাল্ড লু ঢাকা সফর করেছিলেন। তখন তার সফরের মূল প্রতিপাদ্যই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন। পরে তিনি শর্তহীন সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দেন। নির্বচনের পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না’ বলে প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করলেও সেটা আর খুব একটা ভালো হয়নি। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।
সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ডোনাল্ড লু আবারও বাংলাদেশ সফরে আসেন। তার সেই সফরের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছিলেন, ডোনাল্ড লু ঢাকায় মার্কিন সহায়তাকারী প্রতিনিধি হিসেবে গেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং উন্নয়নের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তাদের সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। হাসিনা সরকারের পতনের নেপথ্যে এই ডোনাল্ড লু সেটা বিগত সরকার আকারে ইঙ্গিতে বারবার
বলে গেছেন।
তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানেও আলোচিত নাম। তার মেয়াদপূর্তি ও পদত্যাগ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের পতনেও তার ভুমিকা ব্যাপক আলোচিত।
ইমরান খানের সরকারের পতনের পর থেকেই ডোনাল্ড লু দেশটির রাজনৈতিক আলোচনার বড় একটি অংশ দখল করে রেখেছিলেন।
২০২২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্র তার সরকার উৎখাতে ‘ষড়যন্ত্র’ করেছে অভিযোগ করেন। তিনি বিশেষভাবে লুর দিকে আঙুল তুলে বলেন, লু তার সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন এবং লু ও যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের তখনকার রাষ্ট্রদূত আসাদ মজীদ খানের মধ্যে এক আলোচনাকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।এই আলোচনা ‘সাইফার’ কথোপকথন নামে পরিচিত।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নতুন ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত ঊর্ধ্বতন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগের অনুরোধ করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :