Agaminews
Dr. Neem Hakim

পুরাতন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, দুই কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ /
পুরাতন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, দুই কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি


এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১৭ পরীক্ষার্থীকে ভুল (২০২৫ সালের সিলেবাসে) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সেসব শিক্ষার্থী। 

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পরিদর্শকদের অবগত করেন এবং প্রশ্ন পরিবর্তন করে দিতে বলেন। কিন্তু, পরিদর্শকরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বরং তাদেরকে ধমক দিয়ে পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টা সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।

পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

বিষয়টি জানতে পেরে দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রমাণ পাওয়ায় তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেন।

ওই ১৭ শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের। এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেছেন, “এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চরম অবিচার। একজন পরীক্ষার্থীর কাছে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্বহীনতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর মাত্র আধা ঘণ্টা ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করেছে।”

ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী বলেন, “প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানামাত্রই আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। তারপরও প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেছেন, “পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। খবর পাওয়ামাত্রই আমি কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” 

তিনি বলেন, “বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ওই শিক্ষার্থীদের রোল নম্বরগুলো সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”





Source link

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর