তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধ
audhamyabangla
প্রকাশের সময় : মে ৩১, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ /
৮

মোঃ কামরুল ইসলাম টিটু
বাগেরহাট শরনখোলা প্রতিনিধি
মাছ, কাঁকড়া ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পূর্ব সুন্দরবনের নদী খাল ও বনাঞ্চলে আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের মাছ আহরণ এবং পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং (আইআরএমপি)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হতো। তবে এবার মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বন মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা এক মাস বা ড়িয়ে ১ জুন থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এ সময় সুন্দরবনে প্রবেশের সব ধরনের পাস ও পারমিট ইস্যু সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ফলে কোনো জেলে, মৌয়ালী কিংবা পর্যটক বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না।সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা, তেরাবেকা, খুড়িয়াখালী, সোনাতলা, চালিতাবুনিয়া, বগী, রাজাপুর ও দাশেরভারানী এলাকার অধিকাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তাই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় এসব এলাকায় উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।স্থানীয় জেলেরা জানান, মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে তারা সারা বছর মাছ ধরে সংসার চালান। তিন মাস বন ও নদীতে প্রবেশ বন্ধ থাকায় পরিবার পরিচালনা এবং ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।শরণখোলা বাজারের কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, জেলেদের কাছে তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় মাছ আহরণ বন্ধ থাকলে সেই অর্থ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে, যা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় প্রায় ২০ হাজারের বেশি জেলে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তাদের আয়ের প্রধান উৎস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।অন্যদিকে, পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্যুর অপারেটরদের মতে, এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকলে পর্যটন ব্যাবসা আরও ক্ষতির মুখে পড়বে এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, গত ২৫ মে থেকে জেলে, মৌয়ালী ও পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের পাস ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে।সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জলজ প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :