
কামরুল হাসান রবি:
ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম নাম ভেদিকুড়া। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, ছোট-বড় অসংখ্য সবুজ পাহাড়ে ঘেরা গ্রামে ভেদিকুড়া গারো পাহাড়। গ্রামটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এটিকে ভেদিকুড়া নামেই সবাই চিনে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি অঞ্চলটি জুড়িয়ে দেয় প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মন। এই পাহাড়ের গায়ে রয়েছে মেঘের মতো দেখতে চীনামাটি। দূরদূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা আসেন চীনামাটির সৌন্দর্য দেখতে। বিকেল হলে সীমান্ত এলাকা সহ আশপাশের এলাকার মানুষ চলে আসেন প্রতিনিয়ত।

এছাড়া বাহিরের উপজেলা থেকেও অনেক পর্যটক আসেন পাহাড়গুলোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে। আবার অনেকে মনে করেন এটি হয়তো কোন পর্যটন কেন্দ্র। তবে ঐ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র তৈরির দাবী দীর্ঘদিনের হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি এলাকাবাসী। কিন্তু এখনো তারা আশাবাদী একদিন এই এলাকাটি হবে সবুজ ছায়া পর্যটন কেন্দ্র। এই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হলে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং এলাকার অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেকে ভেদিকুড়া সীমান্তকে সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র বলে দাবি করে আসছিলেন। ধোবাউড়া সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে ভেদীকুড়া সীমান্ত। সীমান্তের সড়ক দিয়েও ভেদীকুড়া পাহাড় দেখা যায় এবং ওপারে ভারতের মেঘালয়ের অসংখ্য পাহাড়েরও দেখা মেলে। ওই স্থানে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে স্থানীয় প্রশাসন ভেদিকুড়া সীমান্তে পর্যটন কেন্দ্র তৈরির আশ্বাস দিলেও এখনো কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় মনসাপারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রতিবছর কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডা হয়। এ জন্যই আমরা এলাকাবাসী মনে করি ‘সবুজ ছায়া পর্যটনকেন্দ্র’ নামে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হবে।
ভেদিকুড়া বিট কার্যালয় সূত্র জানায়, ভেদিকুড়া মৌজায় ৫ একর জায়গাজুড়ে ২০-২৫টি ছোট-বড় চীনামাটির পাহাড় রয়েছে। এখানে বন বিভাগের জায়গা এবং মালিকানা জায়গা রয়েছে।

কবি মতেন্দ্র মানখিন ও জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, সবুজের সমারোহ এই গ্রাম ও চীনামাটির সৌন্দর্য মন জুড়িয়ে যায়। পর্যটনকেন্দ্রটির নাম ‘সবুজ ছায়া’ করা হলে অনেক ভালো হবে। আমরা এখনো আশাবাদী এখানে একটা পর্যটন কেন্দ্র হবে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ‘এখানে সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। তবে এখনো কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি। তবে এতে পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করা হলে এলাকা মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

স্থানীয়রা দাবী করেন, দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় জায়গাটির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। মানুষ বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে জায়গাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন করা হলে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এই এলাকা পর্যটনকেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত। পরিদর্শন করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে ভেদীকুড়া সীমান্তের এই এলাকাটি।
আপনার মতামত লিখুন :