
মুঞ্জুরুলহক মুঞ্জু, জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
জুলাই ২০২২ থেকে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলায় ১৩ উপজেলার ১০৮ টি ইউনিয়ন পরিষদে পরিচালিত হচ্ছে গ্রাম আদালত কার্যক্রম। বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পটি জেলা পর্যায়ে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার এর নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষের ২ জন করে মনোনিত সদস্য সমন্বয়ে গ্রাম আদালত গঠণ করা হয়। বিধি-৩১, প্রাক বিচার ও শুনানীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ০৩ মাস সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করতে পারে। দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয় ধরণের মামলা নিষ্পত্তি করার সুযোগ রয়েছে। দেওয়ানী মামলার ফি ২০ টাকা ও ফৌজদারী মামলার ফি ১০ টাকা, এছাড়া আর কোন খরচ নেই।গ্রাম আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা, যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্পব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়। বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী- যেমন নারী, প্রতিবন্দ্বী ব্যক্তি, হিজড়া এবং বিভিন্ন প্রান্তিক ও দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সহজ উপায়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য এটি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সাধারণ জনগণের মধ্যে এ সেবার উপকারিতা সম্পর্কে ব্যাপক ও কার্যকর প্রচার-প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। নারীর বকেয়া ভরণ পোষণ আদায়ের জন্যও গ্রাম আদালতে অভিযোগদায়ের করা যায়। উল্লেখ্য যে, গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভূক্ত মামলাগুলো উচ্চ আদালত থেকেও গ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়। সঠিক ভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হলে সাধারন মানুষের হয়রানী কমবে এবং উচ্চ আদালতে মামলার জটলা কমবে। ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট মামলা দায়ের হয় ৫,১০৪ টি, মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৪,৮০৬ টি এবং রায় বাস্তবায়ন হয়েছে ৪,৬২৬ টি।
আপনার মতামত লিখুন :