
পাঁচ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে পারফর্ম করা কঠিন। যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই কাজটা কঠিন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলার পর গতকাল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেন মাহেদী। পারফরম্যান্সে চিড় ধরেনি তার।
চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের মারমুখী ব্যাটসম্যান ডেন ফক্সক্রফটের উইকেট। ফক্সক্রফটকে মাহেদী যখন আউট করেন তখন নিউ জিল্যান্ড বড় কিছুর খোঁজে ছিলো। স্পিন বিষে তাকে কাবু করে মাহেদী স্বাগতিক শিবিরে স্বস্তি ফেরান।
ফেরার ম্যাচে ভালো করে উচ্ছ্বসিত এই স্পিন অলরাউন্ডার, ‘‘আমি শেষ পাঁচ মাস আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম। এমনকি এর মধ্যে তিন মাস কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটও খেলিনি। তাই প্রথম ম্যাচটা আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। কিন্তু যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছি, সেটাই আমার জন্য ভালো দিক।’’
মাহেদীর সঙ্গে ভালো করেছেন আরেক স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই রান প্রসবা। বোলারদের এখানে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। নিউ জিল্যান্ড দলে বড় তারকা নেই। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির দল নিয়ে তারা এসেছে। কিন্তু যারা এসেছে তারাও বেশ সামর্থ্যবান। তাইতো প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮২ রানের পুঁজি তারা পেয়েছে।
অতিথিরা বড় পুঁজি পেলেও উইকেট বিবেচনায় বাংলাদেশের স্পিনারদের লড়াকু মানসিকতা ও সাফল্য নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী মাহেদী, ‘‘চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক হয়। তাই বোলারদের জন্য এখানে সবসময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে, কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। গতকালের ম্যাচ দেখলেই বোঝা যায়, আমরা বোলার ইউনিট হিসেবে কতটা কঠিন সময় পার করেছি। একইভাবে নিউ জিল্যান্ডও কিন্তু একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।’’
শুরুতে ব্যাকফুটে থাকরেও পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করাকে বড় করে দেখছেন মাহেদী, ‘‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবাই বাউন্ডারি মারার দিকেই ঝোঁকে। সেই জায়গা থেকে শুরুতেই আমাদের কিছুটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে আমরা ম্যাচে ফিরে আসি। রিশাদের ওভারগুলো খুব ভালো ছিল, আর শেষ দিকে আমি দুইটা ওভারে ভালো কামব্যাক করি। আমার মনে হয়, আমরা যদি সেই সময়টা আরেকটু ভালোভাবে হ্যান্ডেল করতে না পারতাম, তাহলে হয়তো আরও ২০ রান বেশি খেতে হতো।’’
মাহেদীর বিশ্বাস, স্কোয়াডে যারা স্পিনার আছে তাদের নিয়ে এই ফরম্যাটে শক্তিশালী অবস্থানে আছে বাংলাদেশ, ‘‘সব মিলিয়ে যদি উইকেট রিড করা যায়, তাহলে আমি বলব বোলিংয়ের দিক থেকে আমরা নিউ জিল্যান্ডের চেয়ে ভালো করেছি। গত দেড় বছরে স্পিনাররা সত্যিই দাপুটে পারফরম্যান্স করে আসছে। রিশাদ, নাসুম কিংবা আমি, যেই সুযোগ পাচ্ছে, ভালো করছে।’’
আপনার মতামত লিখুন :