Agaminews
Dr. Neem Hakim

জামালপুরে বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি-ফসলি জমি, জীবনের ঝুকিতে স্থানীয়রা


audhamyabangla প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২৫, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ / ১৫০
জামালপুরে বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি-ফসলি জমি, জীবনের ঝুকিতে স্থানীয়রা

বাঁধন হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় বন্যহাতি প্রবেশ করে ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এতে জীবনের ঝুকি বাড়ছে স্থানীয়দের। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গভীর রাত থেকে বুধবার (১৩ আগস্ট)  ভোর পর্যন্ত কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শতাধিক হাতির পাল এসব এলাকায় প্রবেশ করে অন্তত ২৫টি গ্রামে বন্যহাতিরা তাণ্ডব চালায়। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ওই এলাকায় বন্য হাতির দেখা মিলেছে। বন্যহাতির তাণ্ডবের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক  বিরাজ করছে। ময়মনসিংহ বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত বকশীগঞ্জ, শ্রীবরদী ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে ৭০ জন মানুষ  নিহত হয়েছে ও প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া মানুষের হাতে মারা পড়েছে ৩৯টি হাতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার হাতি বেড়কোনা, শোমনাথ পাড়া, সাতানি পাড়া, গারো পাড়া, বালুঝরি, দিঘলাকোনা, লাউচাপড়া, চন্দ্রপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কর্নঝোড়া, বাবলাকোনা, রাজার পাহাড়, ঝোলগাও, বালিজুড়ি, কোচপাড়া, রাঙ্গা জল,কাড়ামারা হারিয়ে কোনা, পাঁচ মেঘাদলসহ সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি এসব গ্রামে বাঙালি, গারো, কোচ ও হাজংসহ অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। কয়েকদিন থেকে টানা পাহাড়ি হাতির তাণ্ডবে ওই এলাকার ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে হাতির আক্রমণ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক জমি চাষাবাদ না করে ফাঁকা ফেলে রাখতে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।জামালপুর জেলার উত্তরে সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গহীন বনাঞ্চলের হাতির দল প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের সমতল ভূমিতে চলে আসে। এ সময় তারা ধান, কলা, আদা, হলুদসহ মৌসুমী ফসল খেয়ে ও বাগানের গাছপালা ভেঙে ফেলে। কিছু এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লাউচাপড়া পাহাড়ি এলাকার শামছুল হুদা বলেন, প্রতি বছর বন্যহাতির কারণে আমাদের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে হাতিরা লোকালয়ে চলে আসে। তখনই ফসল ও গাছপালা নষ্ট হয়।বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল জানান, এ বছর কয়েকদিন থেকে হাতির আক্রমণে এই অঞ্চলের মানুষ বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছে। বন্যহাতিগুলো কখন, কোথায় আক্রমণ করবে তাও বলা যায় না। স্থায়ী সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর