
কামরুল হাসান রবি, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়াকে স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন হিসেবে ঘোষণার দাবি দিনদিন জোরালো হচ্ছে। জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং প্রশাসনিক গুরুত্বের দিক থেকে ধোবাউড়া এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় আসনের মানদণ্ডে উপনীত হয়েছে বলে দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের স্বতন্ত্র আসনের দাবিতে সরব অবস্থান নিয়েছেন।
প্রস্তাবিত নাম: ধোবাউড়া (নতুন সংসদীয় আসন)
বর্তমানে ধোবাউড়া একটি বৃহৎ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে এলাকাবাসীর উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ধোবাউড়া উপজেলায় বর্তমানে ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে, যথা:
১. দক্ষিণ মাইজপাড়া
২. গামারিতলা
৩. ধোবাউড়া সদর
৪. পোড়াকান্দুলিয়া
৫. গোয়াতলা
৬. ঘোষগাঁও
৭. বাঘবেড়
এই উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার।
জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রস্তাবনায় আরো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দা ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন এবং হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ও বিলডোরা ইউনিয়ন। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত নতুন আসনে মোট ইউনিয়নের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি।
প্রস্তাবনার পেছনে যুক্তিগুলো হল:
ধোবাউড়া ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা; জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যা সংসদীয় আসনের মানদণ্ড পূরণ করে।
সংযুক্ত প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলো ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন এবং প্রশাসনিক ও আর্থসামাজিকভাবে সংযুক্ত।
স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি নিজস্ব সাংসদের মাধ্যমে উন্নয়ন ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব পাওয়া।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ধোবাউড়া উপজেলার এক শিক্ষার্থী আব্দুল্ আল মামুন নির্বাচন কমিশনের ঢাকা অফিসে গিয়ে একটি স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন গঠনের দাবিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন। তার এই পদক্ষেপ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারপর থেকেই ধোবাউড়া উপজেলাবাসী বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে মত প্রকাশ করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবিটি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ধোবাউড়া উপজেলাকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক সংসদীয় আসন গঠন করা হলে এখানকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পাবে গতি। সেইসঙ্গে এই এলাকার জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বও অধিকতর জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণের সরব অবস্থান এবং যুক্তিপূর্ণ প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন কত দ্রুত এই দাবিকে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নেয়।
আপনার মতামত লিখুন :