
ধোবাউড়া( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
বোরো মৌসুমের শুরু থেকে ধোবাউড়া উপজেলার চাষিরা অতিরিক্ত দামে সার ক্রয় করে চলেছেন। সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, পরিবেশকেরা (ডিলার) কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে অতিরিক্ত দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন।
পরে সেই সার খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এরপরও চাহিদা মতো পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, সারের সংকট নেই। পর্যাপ্ত সার রয়েছে।অন্যদি ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমির চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলার পোড়াকান্দলিয়া ইউনিয়নের গফিনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, তিনি বাধ্য হয়ে ফকিরের বাজারের এক খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
সদর ইউনিয়নের আবুল কালাম জানান, তিনি বিএডিসি ডিলারের কাছে সার কিনতে গেলে অতিরিক্ত দাম দাবী করাই কৃষক সার ক্রয় না করে চলে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গামারীতলা ইউনিয়নের আবু হুরাইরা বলেন, দু থেকে তিনটি দোকান ঘুরে অতিরিক্ত দামে সার কিনেছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ধোবাউড়ায় মোট ১৪ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে শর্ষে, ২০০ শত হেক্টর জমিতে আলু, ১শত ০৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১হাজার ৭০০ শত হেক্টর জমিতে সবজি চাষ,গম ১ শত ৩০ হেক্টর,মরিচ ৬০ হেক্টর,চিনা বাদাম ১৪০ হেক্টর,রসুন ২০ হেক্টর,ধনিয়া ৭ হেক্টর,তরমুজ ৩ হেক্টর । এসব শস্যের জন্য ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি সার প্রয়োজন হয়। সরকার নির্ধারিত উপজেলার ২৩ জন বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পরিবেশকের মাধ্যমে এসব সার সরবরাহ করা হয়।
সরে জমিনে গিয়ে গামারীতলা ও দক্ষিনমাইজপাড়া ঘোষগাও, গোয়াতলা ইউনিয়নের সরকার নির্ধারিত পরিবেশক ঠিকমতো গুদামঘর খোলেন না। সব সময় বন্ধ থাকে তারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে গোপনে সার বিক্রি করে চলে যান। কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করেন না। খুচরা বিক্রেতার হাঁতে সার তুলেদেন।
একই এলাকার কৃষকরা আরো বলেন, নিজ এলাকার বিসিআিইসি ডিলার মাত ২ জন অন্য উপজেলার ৫ জন ব্যবসায়ীকে পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মাঝে ৩ টি দোকান সব সময় বন্ধ থাকে। এর পরেও কৃষি কর্মকর্তা তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাঘবেড় বিসিআইসি মুতাহার মুন্সি সার পরিবেশক এর কাছে জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন তাও জানান খুচরা বিক্রেতার কাছে সার বিক্রির বিষয়টিও।
ঘোষগাও জুনায়িদ সার ডিলারের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি অতিরিক্ত দামের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া ফেরদোসি বলেন, যে পরিবেশকের গুদামঘর বন্ধ রেখেছেন, তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সার পৌঁছাতে সময় লাগছে।পরিবেশকদের বেশি দামে সার বিক্রি প্রসঙ্গে বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও সার বিক্রি করতে হয়। তবে সব অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :