মো: আজিনুর রহমান নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে আদালতের নির্দেশে মালামাল উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবলের ভাড়া বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই থানার কর্মরত এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নালিতাবাড়ী থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল জুয়েল মিয়ার ভাড়া বাসায় আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট তামিলের নামে তালা ঝুলিয়ে দেন একই থানার এসআই রফিকুল ইসলাম-২। এ সময় জুয়েল মিয়াকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলা শহরের নদীরপাড় সিটপাড়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছ ।বাসার মালিক মোস্তুফা ওরফে লাল মিয়া বলেন, গত ২৫ মে দুপুরে এসআই রফিকুল ইসলাম আমাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে কনস্টেবল জুয়েল মিয়াকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগানো হয়। তিনি বলেন, “বাসা ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই রফিকুল ইসলাম আমাকে বলেন, যতদিন তালা ঝুলানো থাকবে ততদিনের ভাড়া জুয়েল মিয়াই পরিশোধ করবেন।”স্থানীয়দের মতে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মালামাল উদ্ধারের সময় কোনো ব্যক্তিকে তার ভাড়া বাসা থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগানো আইনসঙ্গত কি না। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী জব্দকৃত মালামাল থানায় সংরক্ষণ করা হবে এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি দাবি করেন, আদালতের তালিকার বাইরে কোনো মালামাল জব্দ করা হবে না।দায়িত্ব পালনকালে সরকারি পোশাকের পরিবর্তে সিভিল পোশাকে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা অযুহাত দেখান। জানা গেছে, কনস্টেবল জুয়েল মিয়ার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মারিয়া আকন্দ বিনা’র দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। জুয়েল মিয়াকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে বাসায় তালা লাগানোর কোন অনুমতি আদালত এসআইকে দেয়নি বলে জানা গেছে। তবে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের সময় জুয়েল মিয়াকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা। এদিকে ভুক্তভোগী কনস্টেবল জুয়েল মিয়া অভিযোগ করেন, এসআই রফিকুল ইসলামের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আমি গত ৩১ মে রবিবার মহা পুলিশ পরিদর্শক, রেঞ্জ ডিআইজি ময়মনসিংহ কার্যালয় বরাবরে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছি। অভিযোগ দাখিলের ৩ দিনের মধ্যেই আমাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে জানান কনেষ্টবল জুয়েল মিয়া।ঘরে তালা লাগিয়ে কনস্টেবলকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এসব অবান্তর প্রশ্ন করেন কেন? উক্ত বিষয়ে পুলিশ সুপার শেরপুর একে.এম জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি পুলিশ কনস্টেবলের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি জানি না ভালো করে, তদন্ত করতে দিয়েছি অফিসারকে। তদন্ত শেষ হলে ব্যবস্থা নিব।
আপনার মতামত লিখুন :