
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, ধান কাটার মৌসুমে এমন পরিস্থিতি তাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল আমিন বলেন, “মনু সেচ প্রকল্পের আওতায় কাউয়াদিঘি হাওরে ৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। আমাদের জরিপ অনুযায়ী, হাওর ও হাওরের বাইরের ৬২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। ৩২৫ হেক্টর বোরো ধান ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষতির হিসাব করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
তবে, কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে চাষাবাদে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। জ্বালানি তেল সংকটের কারণে জমি সেচ দিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়েছে। ধান এখন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। চাষিদের ভাষ্য, যদি দ্রুত পানি নেমে যায় তাহলে অনেক জমির ধান রক্ষা করা সম্ভব হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই ক্ষেতের ধান পানির নিচে চলে যায়। মনু সেচ প্রকল্পের সেচ পাম্প দিয়ে পানি সেচ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা।
রাজনগর উপজেলার কাওয়াদিঘি হাওরের ভুরভুরি বিল পারের কৃষক কয়ছর মিয়া বলেন, “খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বোরো ধান নষ্ট হয়। ভুরিজোড়ি খাল খনন না করলে এই ক্ষতির হাত থেকে ফসল রক্ষা করা যাবে না।”
নৌকা নিয়ে বুক সামনে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান তুলছেন কয়েকজন কৃষক
কাউয়াদিঘি হাওরের প্রান্তিক কৃষক সুজন খা বলেন, “এখন হাটুসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে আমাদের। কোনো কোনো এলাকায় বুক সমান পানি রয়েছে। সেখানে ডুবদিয়ে ধান কাটা হচ্ছে।”
হাওর ঘুরে দেখা গেছে, শালকাটুয়া, মাঝের বান্দ, শাহবাজপুর, ফতেপুর, বেড়কুঁড়ি, নোয়াতুতা বন্দ, ভুরভুরি বিল, অন্তেহরি, পালপুর, ইসলামপুর এলাকার বোরো ক্ষেত ঢলের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
মেদেনি মহলের জগন্নাতপুরের কৃষক নেছার মিয়া জানান, হাটুসমান পানিতে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিক ও তেল সংকটের কারণে আগে ছিল ধানকাটা ও মাড়াইর সমস্যা, এখন পানি ঢুকে সব শেষ। আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি।
তিনি বলেন, “পানিতে ভিজে ধান উঠাচ্ছি। এই ধানের অর্ধেকও কাজে আসবে কিনা বুঝা যাচ্ছে না। মায়ার কারণে কষ্টের ফসল নষ্ট হলেও ঘরে তুলছি।”
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা সেচ পাম্প দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে পানি সেচ দিতে পারছি না। বিদ্যুৎ পাওয়া সাপেক্ষে পানি সেচ অব্যাহত রাখা হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :