।
মুঞ্জুরুলহক মুঞ্জু, কিশোরগঞ্জ, প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিন দিনে প্রায় ২ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েসোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই তিন উপজেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত অব্যাহত রয়েছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক কৃষক পাকা ধান কাটতে মাঠে নামতে পারছেন না। বজ্রপাতের আতঙ্কে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টগ্রামের খয়েরপুর, আব্দুল্লাহপুর, আদমপুর, মিঠামইনের ঢাকির হাওর, ঘাগড়ার হাওর, বড় হাওর এবং ইটনার ডুইয়ারপাড় ও ধনপুর এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা নৌকায় করে আধাপাকা ধান কেটে শুকনো স্থানে নিয়ে আসছেন।খয়েরপুর এলাকার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে ধান আবাদ করেছি। আর দুই দিন পর কাটার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ পানিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।
কৃষকদের অভিযোগ, নদীতে পলি পড়ে ভরাট হওয়া এবং ফসল রক্ষা বাঁধ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদীকুর রহমান জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তিনি কৃষকদের ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওরে মোট ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলে জানান তিনি ।
আপনার মতামত লিখুন :