নকশা বহির্ভূত বহুতল অপসারণে মসিকের নোটিশে পাত্তা দেয়নি ভবন-মালিক; কর্তৃপক্ষ উদাসীন
audhamyabangla
প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৫, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন /
৪৭৫

আশিকুর রহমান মিঠু:
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী দপ্তরে যেন অনিয়মই ছিলো নিয়ম। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কতৃপক্ষ তাতে গা করার প্রয়োজন মনে করেনি। গত ৫ই আগষ্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হওয়ার পর দেশবাসী মনে করেছিলো হয়তোবা দুর্নীতি বা অনিয়ম কিছুটা কমবে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করলেও তার অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো বহাল। সেই কর্মকর্তারা চেয়ারে বসে দাপটের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আদর্শ বাস্তবায়নেে এখনো তৎপর। এমনি এক ঘটনার বিবরণ দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ নগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১নং গার্লস স্কুল রোডে দিপক চন্দ্র হোড়ের নকশা বহির্ভূত বহুতল নির্মাণাধীন ভবনটি নিয়ে আওয়ামী আমল থেকে অদ্যাবধি এলাকাবাসী একাধিকবার অভিযোগ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তখন আওয়ামী দাপটে এসব অভিযোগ আলোর মুখও দেখেনি। গত ৫ আগষ্টের পর আবারো অভিযোগ করলে বিষয়টি মসিকের প্রশাসক গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দিলেও কর্মকর্তারা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অজ্ঞাত কারণে সময় ক্ষেপণ করে যাচ্ছেন। গত ২১ জুলাই ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস ভবনটিতে রেড এলার্ট জারীসহ ৩ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবনের নির্মিত অংশ অপসারণের নোটিশ প্রদান করলেও গত ১ মাসে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি ভবন-মালিক। বরংঅভিযোগ এমন যে, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আইনী নোটিশ পাওয়ার পর দ্বিগুণ উৎসাহে ভবন মালিক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন থেকে লোকজন প্রায়ই এসে মালিকের সঙ্গে গোপন মিটিং করায় এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার এ প্রতিবেদক এনিয়ে যোগাযোগ করলেও তিনি সময় ক্ষেপণের পায়তারায় নানা ছুতায় এড়িয়ে যান। আশ্চর্যের বিষয় হলো,সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা এ বিষয়টির আদি-অন্ত কিছুই জানেন না। ভবনটির স্বত্বাধিকারী দিপক চন্দ্র হোড়েরও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :