Agaminews
Dr. Neem Hakim

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ /
ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার


রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় তার বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ বাড্ডার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি জানান।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজ কক্ষে যান মিমো। রবিবার ভোরে ফজরের সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

বাড্ডা থানার এসআই ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “মুনিরা মাহজাবিন মিমো ওই বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের সবার অজান্তে রুমের ভেতর ফ্যানের সঙ্গে দড়ি পেচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান ঘটনাটি জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরো জানান, মিমোর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা লেখা ছিল।

মিমোর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে এবং তার সেই সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, “গতকাল রাতে একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়।”

এ ঘটনায় মিমোর বাবা সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। পরে সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এদিকে বিভাগের চেয়ারপারসন সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক গণমাধ্যমকে বলেন, “মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমি সকাল ৮টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।”

শোক প্রকাশ

মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্খিতভাবে আমাদের সবাইকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”





Source link

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর