
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় রাজ্যটির ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। জেলাগুলো হলো দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমান।
ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে যায় মকপোল। ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে স্থানীয় সকাল ৭টায়, শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
প্রথম দফায় ১৫২ আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৬৭টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধান বুথের সংখ্যা ৪১ হাজার ৪১৮। সহকারী বুথ রয়েছে ২৯৫৮টি। কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। প্রতি বুথে গড়ে ৮১৩ জন করে ভোটার রয়েছেন।
প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ মিলে প্রায় ৫ লাখ কর্মী প্রথম দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন।
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি, ৬০ লাখ, ৭৭ হাজার, ১৭১ জন। পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭৭ হাজার ২১০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।
প্রথম দফায় ১৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এ দফায় বহু মন্ত্রী এবং বর্তমান বিধায়কের ভাগ্য বাক্স বন্দি হবে।
প্রথম দফার যে ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে, এরমধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল ৯২টিতে। বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন। পাহাড়ের একটি আসন পেয়েছিল নির্দল। কংগ্রেস বাস সিপিআইএম একটি আসনেও জিততে পারেনি।
এবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর- মুসলিম অধ্যুষিত এই তিন জেলায় মোট ৪৩টি আসন রয়েছে। প্রায় সব আসনেই সংখ্যালঘু ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এই তিন জেলাতেই সংখ্যালঘু ভোট ভাগের বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল থেকে বহিষ্কার হয়ে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন দল গঠন করেছেন হুমায়ুন কবীর। যদিও হুমায়ুন যেভাবে শুরু করেছিলেন, ভোট যত এগিয়েছে তত তার দলের ছন্নছাড়া অবস্থা প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপির সঙ্গে তার যোগসাজসের একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসার পরেই যথেষ্ট অস্বস্তিতে হুমায়ুনের দল। এমনকি এই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা এতে সুবিধা হয়েছে তৃণমূলের। যদিও এই ৩ জেলায় বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং আইএসএফ তাদের প্রার্থী দিয়েছে। তবে ভোট বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটবে কিনা, তা জানা যাবে ভোট গণনার পর। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আগামী ২৯ এপ্রিল।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যেও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ রাজ্যে ২৩৪ আসনে আজ একটিমাত্র দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই কেরালা, আসাম এবং পদুচরিতে ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যেই ভোট গণনা ৪ মে।
আপনার মতামত লিখুন :