
মাসুম লুমেন, গাইবান্ধা || রাইজিংবিডি.কম
প্রকাশিত: ২২:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ২২:১১, ২২ এপ্রিল ২০২৬
আরাফ।
ড্রামে সংরক্ষণ করা ডিজেলে ডুবে নিহত শিশু আরাফের বাবা আশিকুর রহমান যখন খুব ছোট তখনই বাবাকে হারান। আশিকুররা ছিলেন দুই ভাই। এর মধ্যে, আশিকুর বড়। ছোট ভাই এখনো বিয়ে করনেনি। বিবাহিত জীবনে আশিকুর-শাহানাজের ঘরে জন্ম নেয় আরাফ। তখন থেকেই পরিবারের সদস্যদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিশুটি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন বিলাপ করছেন মা-বাবা—কথাগুলো গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপনের।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “সোমবার দুপুরে আশিকুর রহমানের ভাড়ায় চালিত একটি ট্রাকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি মেরামতের জন্য স্থানীয় মেকানিক রুবেল মিয়ার গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। রুবেল মিয়া জানান, ডিজেলের যে ট্যাংকি রয়েছে সেখানে ফুটো হয়ে গেছে; তেল চুয়ে চুয়ে পড়ছে। তখন ট্যাংকি থেকে ডিজেল নামিয়ে একটি ড্রামে রাখা হয়। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় রুবেল ডিজেল তার গ্যারেজে রাখতে অস্বীকৃতি জানালে আশিকুর সেগুলো বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং ঘরের বারান্দায় একটি মুখ কাটা হাফ ড্রামে রাখেন।”
ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে আশিকুর ভাত খেতে বসলে শাহানাজ কোলে থাকা আরাফকে নামিয়ে পানি আনতে যান। সেই সময় তেলের ড্রামে পড়ে যায় শিশুটি। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতেই আরাফকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে শিশুটি মারা যায়।”
আরাফ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পালানপাড়া গ্রামের আশিকুর রহমানের ছেলে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন কুমার সরকার বলেন, “ডিজেলে ডুবে এক শিশু মারা গেছে। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/রাজীব
আপনার মতামত লিখুন :