
প্রকাশিত: ২২:০৬, ২২ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ২২:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সম্প্রতি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির কর্তৃক ‘৯৯ শতাংশ পুলিশ সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল’ শীর্ষক মন্তব্য নিয়ে জনমনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত এই ব্যাখ্যায় পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিষয়টিকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
নিচে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।
আইজিপির বক্তব্যটি মূলত “বার্ষিক তথ্য’ বা একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতজন সদস্য সুশৃঙ্খল থাকছেন তার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। গত ৪ বছরের (২০২২-২০২৫) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে গৃহীত ও অনুসন্ধানে প্রেরিত মোট অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৭,৮৮২টি আর বর্তমানে মোট পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ২,১৮,৫৫৪ জন। এতে গড় বার্ষিক অভিযোগ দাঁড়ায় ১,৯৭০.৫টি এবং বার্ষিক অভিযোগে জড়িত হওয়ার হার ০.৯০ ভাগ।
এতে প্রতীয়মান হয় যে, যেকোনো বড় সংস্থায় ১ ভাগ বা তার কম সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এটি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর পরিচায়ক। এ হার নির্দেশ করে যে, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর।
অপরদিকে, অভিযোগের প্রকারভেদ বিশ্লেষণ করলে দেওয়া যায়, সব অভিযোগই সরাসরি দুর্নীতি সম্পর্কিত নয়। যেমন-পারিবারিক সমস্যা বা অদক্ষতা সরাসরি অসততা নয়, বরং ব্যক্তিগত বা কৌশলগত সীমাবদ্ধতা। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত অসততা বা দুর্নীতির হার আরো অনেক কমে আসবে যা প্রায় ০.৭০ ভাগ এর নিচে।
অন্যদিকে, জনমানসে ধারণা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, ২ লাখ ১৮ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২ হাজার সদস্য যখন কোনো ভুল করেন, তখন সেই ক্ষুদ্র অংশটির কারণে জনগণের মনে বিরূপ ধারণা জন্মে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আইজিপি তার বক্তব্যে এ বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছেন।
ঢাকা/মাকসুদ/সাইফ
আপনার মতামত লিখুন :