মুঞ্জুরুলহক মুঞ্জু জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
আজ ০৫ মে (মঙ্গলবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা হালুয়া ঘাট এলাকায় ঘোরউত্রা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।অভিযানকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করেন। এ সময় ড্রেজারের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বি.আই.ডব্লিউ.টি এ’র অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করে এবং সাব-ঠিকাদার আজহারুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করানো হয়।পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে সকল খনন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন এবং বৈধতার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসক ও করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন।এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলামিন কবির বলেন—“করিমগঞ্জ উপজেলায় কোনোভাবেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত। আজকের অভিযানের অংশ হিসেবে ঘোরউত্রা নদীর উপর পরিচালিত ড্রেজারটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে ঠিকাদার আজহারুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চামড়া থেকে বালিখোলা হয়ে গোড়া উত্রা নদীর খনন কাজ তিনি বৈধভাবেই পরিচালনা করছেন এবং খুব শিগগিরই সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিকট উপস্থাপন করবেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশাসনের এ ধরনের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে গোড়া উত্রা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।বিশেষ করে নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ ধান চাষের জমি ধীরে ধীরে ভেঙে নদীর সাথে একাকার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু কৃষিজমিই নয়, কৃষকদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ খনন কার্যক্রম দ্রুত ও কঠোরভাবে বন্ধ না করা হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই তারা নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।তাদের মতে, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধ করা সম্ভব হবে এবং নদী ও কৃষিজমি উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :