Agaminews
Dr. Neem Hakim

চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের উত্তাপ সংসদেও


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ /
চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের উত্তাপ সংসদেও


সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধীদল জামায়াতের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে-বাইরে চক্রান্ত শুরুর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি দলীয় সদস্য আব্দুল ওয়াদদু ভুঁইয়া। তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছে, তারা আঙুল চুষবে না। তারা তাকিয়ে থাকবে না।” এ সময় জামায়াতের এমপি হট্টগোল শুরু করেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন আব্দুল ওয়াদদু ভুঁইয়া। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি এমপির এই মন্তব্য বিশৃঙ্খলাকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা।” তিনি ওয়াদুদ ভুঁইয়ার মন্তব্যকে অসংসদীয় আচরণ হিসেবে দাবি করে তা এক্সপাঞ্জের দাবি জানান।

তবে বিএনপি এমপির এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, “অসংসদীয় কোনো শব্দ ব্যবহৃত হলে পরীক্ষা করে বাদ দেওয়া হবে।”

চট্টগ্রাম সিটি কলেছে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, “চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর শিবির হামলা করেছে। ছাত্রদলের অপরাধ তারা শুধু বলেছে ‘গুপ্ত’। সেই জন্যই তারা ছাত্রদলের ওপর হামলা করে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে।”

বিরোধীদলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্য করে আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “এই সংসদের বিরোধীদলের ভাইয়েরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই সরকারকে নাজেহাল করার জন্য যে চক্রান্তের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি বলেন, “একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধকে তারা মেনে নিতে পারেনি। যারা একাত্তরের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে না, তারা দেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। একাত্তরের স্বাধীনতা মানতে পারেনি তারা আজকে সুস্থ ধারার সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।”

তার বক্তব্যের সময় বিরোধীদলের সদস্যরা হৈ চৈ এবং বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া বলেন, “বিরোধীদল ক্ষেপে উঠেছে। গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। চট্টগ্রামে ছাত্রদল কী বলেছে? গুপ্ত বলেছে। সংসদে আমরা কথা বলার জন্য আসছি। তারা আজকে কণ্ঠ চেপে ধরতে চায়। ফ্যাসিস্টদের মত গলা চেপে ধরতে চায়। তার প্রকাশ এখানে হচ্ছে। বিরোধীদলের আচরণে মনে হচ্ছে তারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় না।”

তিনি বলেন, “বিরোধীদলকে বলে দিতে চাই-আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না। বসে থাকবে না। আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে তাকিয়ে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে। বিরোধীদলকে অনুরোধ করব-সরকারকে সাহায্য করুন। ফ্যাসিস্টের মত বিভিন্ন দলের মত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল তরা ঠিক হবে না।”

এ সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “যে অসংসদীয় ভাষা এখানে ব্যবহার করা হয়েছে তা এক্সপাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, এতে আমরা আঘাত পেয়েছি। আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না? তার মানে কী? তিনি কি উস্কে দিচ্ছেন জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে? এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।”

পরে জামায়াতের আরেক সদস্য মিজানুর রহমান (চাপাইনবাবগঞ্জ-২) চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, “কারো ওপর দায় না চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”

বিএনপি দলীয় এমপি (পাবনা-২) এ কে এম সেলিম রেজা হাবীব বলেন, “বিরোধীদল যেভাবে অসহিষ্ণু আচরণ করছে। যেভাবে আক্রমণাত্মক ভূমিকা রাখছে। এতে কে উপকৃত হবে তা বিরোধীদলের নেতাদের কাছে প্রশ্ন।”

গণতন্ত্র বিপন্ন করার জন্য যদি অসহিষ্ণু হলে কাদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে তা ভাবনার জন্য বিরোধীদলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ ও আদেশ নিয়ে যে বিতর্ক আপনারা করছেন। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেছেন স্বাক্ষরিত সনদ তিনি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। শুধু বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা না করে আসুন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করি। ভোটের অধিকারকে নিশ্চিত করি। দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করি।”





Source link

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর