
ফুলবাড়িয়াা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলা দেখতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। ঐতিহ্যবাহী ‘হুমগুটি’ খেলা বিকেলে সাড়ে ৩ টায় থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত টানা প্রায় ৬ ঘন্টা খেলা চলে।শক্তি ও কৌশলের ‘হুম গুটি’ খেলায় বিজয়ী হয় দেওখোলা ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের দল।
গত মঙ্গলবার উপজেলার লক্ষীপুর নতুন সড়ক সংলগ্ন তেলিগ্রাম বড়ইআটা নামক স্থানে তালুক-পরগনা সীমান্তে হাজার হাজার মানুষের সমাগমে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ২৬৬ তম ‘হুমগুটি’ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে উঠে গ্রামের প্রতিটি মানুষ। ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়ে নতুন জামা-কাপড়, গ্রামে গ্রামে জবাই হয় শতাধিক গরু-খাসি। ঘরে ঘরে তৈরী হয় শীতের পিঠা-পায়েস পুলি।
লক্ষিপুর, দেওখোলা, তেলিগ্রাম, দশমাইলসহ আশপাশের কয়েক গ্রামে দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনরা আসেন। এদিন গ্রাম গুলুতে আত্মীয় স্বজনদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
‘হুম গুটি’ খেলায় কোন রেফারি নেই, নেই কোন নিদৃষ্ট সময়। হাজার হাজার খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনদিন মারামারি হয়নি। ঘন্টায় ঘন্টায় খেলার রং বদলায়। নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় খেলায়। খাল-বিল ও মাঠ-ঘাট পেরিয়ে গুটি গুম না হওয়া পর্যন্ত চলে খেলা।
জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ও জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের প্রজাদের শক্তি ও কৌশলের ৪০ কেজি ওজনের ‘হুম গুটি’ খেলার মাধ্যমে দুই জমিদারের ‘পরগণা ও তালুক’ দ্বন্দ্বের অবসান হয়। এরপর পর থেকে পৌষ মাসের শেষ দিন ‘হুম গুটি’ খেলাটি তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামে প্রতি বছর হয়ে আসছে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মুক্তাগাছা জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ও বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের জমির পরিমাপের বিরোধ সমাধানে তাঁদের প্রজাদের মধ্যে কৌশল ও শক্তির খেলা ‘হুম গুটি’র আয়োজন করেছিলেন। খেলার শর্ত ছিল যে জমিদারের প্রজারা ‘হুম গুটি’ নিতে পারবেন, সেই জমিদারের জমির পরিমাপ হবে সাড়ে ৬ শতাংশে এক কাঠা। পরাজিত জমিদারের এলাকার জমির পরিমাপ হবে ১০ শতাংশে এক কাঠা।
জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী প্রজারা খেলায় বিজয়ী হয়। এরপর থেকে জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর ‘পরগনা’ এলাকায় জমির পরিমাপ হয় সাড়ে ৬ শতাংশে এক কাঠা। জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের এলাকায় ‘তালুক’ জমির পরিমাপ হয় ১০ শতাংশে এক কাঠা।
পূর্বাঞ্চলের খেলোড়ার ইসমাইল হোসেন বলেন, ঐতিবাহী ‘হুম গুটি’ খেলা পূর্ব,পশ্চিম,উত্তর ও দক্ষিণ চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে খেলা হয়। টানা তিন বছর যাবৎ পূবাঞ্চলের দল বিজয়ি হয়ে আসছে।
খেলার আয়োজক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রায় ৬ ঘন্টা খেলা চলার পর রাত দশটার দিকে পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়রা তাদের এলাকায় হুম গুটি নিয়ে তাঁরা বিজয়ি হয়।
আপনার মতামত লিখুন :