Agaminews
Dr. Neem Hakim

সন্তান প্রসবের ৫ ঘন্টা পর দাখিল পরিক্ষা দিলো কিশোরী


audhamyabangla প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ / ১৫
সন্তান প্রসবের ৫ ঘন্টা পর দাখিল পরিক্ষা দিলো কিশোরী

মোঃ কামরুল ইসলাম টিটু
বাগেরহাট শরনখোলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলায় সন্তান প্রসবের ৫ ঘন্টা পর দাখিল পরিক্ষা দিলো তাসমিয়া আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৬ টায় শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। বর্তমানে নবজাতক ও মা দুজনেই সুস্থ আছেন। কিশোরী তাসমিয়া রাজৈর ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ও উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দ্বীপচর গ্রামের মো: নুরুল ইসলাম আকনের মেয়ে। এবিষয়ে কিশোরীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন,তার মেয়ে রাজৈর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবছর দাখিল পরিক্ষা দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে আল মামুন হাওলাদারের সাথে বিয়ে হয় তাসমিয়ার। বিয়ের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে যায়।ওইদিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ছিলো অংক পরিক্ষা। কিন্তু সোমবার রাতেই তার মেয়ের প্রসববেদনা শুরু হয়। এরপর তাকে দ্রুত শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরেরদিন মঙ্গলবার সকাল ৬ টার দিকে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সবার ধারণা ছিলো পরিক্ষা আর দেওয়া হবেনা। কিন্তু সন্তান প্রসব করার ৪ ঘন্টা পর সকাল ৯ টার মধ্যেই তাসমিয়া স্বাভাবিকভাবে  পরিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে। শুধু মঙ্গলবার না,বৃহস্পতিবারের বাংলা পরিক্ষাও ভালভাবে দিতে পেরেছে। নুরুল ইসলাম বলেন,তার মেয়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকায় শত কষ্টের মাঝেও সবগুলো পরিক্ষা দিবে বলে জানিয়েছে।এব্যাপারে রায়েন্দা রাজৈর আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মো: আব্দুল জলিল বলেন,বাচ্চা হওয়ার পর মেয়েটি স্বাভাবিকভাবেই পরিক্ষা দিতে এসেছে। তাকে সবার সাথে বসিয়ে পরিক্ষা দিতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। সন্তান প্রসবের পর প্রতিষ্ঠান থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পরিক্ষা দিতে পারবে কিনা। কিন্তু মেয়েটির প্রবল আগ্রহ থাকায় সে পরিক্ষা দিতে পেড়েছে। আশাকরি বাকি পরিক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে পারবে। শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ধননজয় মন্ডল বলেন,গত মঙ্গলবার পরিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে শুনি সন্তান প্রসব করে পরিক্ষা দিতে এসেছে ওই শিক্ষার্থী। তখন তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,বসতে বা পরিক্ষা দিতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা। সমস্যা হলে আলাদা বেডে দিয়ে পরিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা। কিন্তু মেয়েটি সুস্থ থাকায় সবার সাথে বসে স্বাভাবিকভাবেই পরিক্ষা দিয়েছে।
মোঃ কামরুল ইসলাম টিটু

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর