মুঞ্জুরুলহক মুঞ্জু, কিশোরগঞ্জ  প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত কৃষকদল নেতা মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (২ মে) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।এর আগে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। এ ঘটনায় একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে তার স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন।এ মামলায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সাদ্দাম হোসেন পাকুন্দিয়ার ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। তার ছোট দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি উপজেলার নারান্দী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সে পাকন্দিয়া  বেসরকারি সংস্থা  এনজিএ পিএসটিসি  নতুন দিনের  চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ছিল। নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মো. গোলাপ মিয়া ও মো. মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাদ্দাম হোসেন ব্যাবসায়ীক কাজ শেষে ছোট আজলদী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বাড়ির উঠানে পৌঁছামাত্র প্রতিবেশী গোলাপ মিয়া, আজিজুল ও মানিকসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। এসময় আজিজুল হকিস্টিক দিয়ে সাদ্দামের মাথায় আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।অন্যরা দা ও লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। উঠানে হইচই শুনে স্ত্রীসহ স্বজনরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. শামসুল হক মিঠু বলেন, প্রতিপক্ষের হামলার শিকার সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে শনিবার রাতে নিজ বাড়িতে মারা গেছে। এ ঘটনায় গতবছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।