
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই নিক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিশ্বের স্বাধীন দেশগুলোর ওপর তাদের নিজস্ব নীতি ও ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছে তিনি এসব কথা বলেন। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির।
তালাই নিক বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অবশেষে এটি মেনে নিতে হবে যে তাদের অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবিগুলো পরিত্যাগ করার সময় এসেছে। বিশ্ববাসী দেখেছে যে, প্রতিরোধের মাধ্যমে যেকোনো পরিশক্তিকে থামানো সম্ভব।”
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসন ব্যবস্থাকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাসের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মিনাব স্কুলের শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও নিরপরাধ বেসামরিক মানুষদের হত্যা পশ্চিমা বিশ্বের কথিত মানবিক মূল্যবোধের মুখোশ খুলে দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাসহ শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল বহর নিয়ে হামলা চালায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালাই-নিক ঘোষণা করেন যে, ইরান তার সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ‘শত্রু দমনের অভিজ্ঞতা’ স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী।
তিনি এসসিও-কে বর্তমানের একমেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বহুমুখী বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাতি ও সরকারগুলোর আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিশকেকে পৌঁছানোর পরপরই তালাই নিক এসসিও’র প্রভাবশালী সদস্য কিরগিজস্তান, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।
আপনার মতামত লিখুন :