
ফরিদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রকাশিত: ০৮:২৮, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ০৮:২৯, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ফরিদপুরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদারডাঙ্গী গ্রামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তার মা-মেয়ে ও প্রতিবেশীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ এক যুবকের কোদালের কোপে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ইউনিয়নের গদারডাঙ্গী গ্রামে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহতরা হলেন- আমেনা বেগম (৭৫), তার মেয়ে রাহেলা বেগম (৫০) এবং প্রতিবেশী কাবুল (৪৫)।
অভিযুক্ত যুবকের নাম আকাশ মোল্লা (২৫)। তিনি নিহত আমেনা বেগমের নাতি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে উত্তেজিত হয়ে আকাশ ঘরে থাকা মাটি কাটার কোদাল দিয়ে তার দাদি আমেনা বেগম ও ফুপু রাহেলা বেগমকে কোপাতে শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আকাশ আরো হিংস্র হয়ে ওঠেন। তিনি প্রতিবেশী কাবুল ও রিয়াজ মোল্লাকেও আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই আমেনা, রাহেলা ও প্রতিবেশী কাবুল মারা যান।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আহত রিয়াজ মোল্লা বলেন, “আমি আর কাবুল বাড়ির বাইরে চিৎকার শুনে দাঁড়াই। আশপাশের বাড়ির মহিলারাও জড়ো হয়ে দূর থেকে ঝগড়া হওয়ার শব্দ শুনছিল। হঠাৎ করে চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা ৮-৯ জন নারীসহ উঠানের দিকে এগিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি দুই নারীর নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উঠানে পড়ে আছে। সেই মুহূর্তেই আকাশ কোদাল উঁচিয়ে কাবুলের ওপর হামলা করে এবং তাকে মেরে ফেলে। আমাকেও কোপ দিয়েছিল, কিন্তু আমি কোনোমতে দৌঁড় দিয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরি।”
অভিযুক্ত আকাশের বাবা হারুন মোল্লা ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। বাড়ি ফিরে মা ও বোনের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমার ছেলে আমার মা আর বোনকে খুন করছে। সে পাগল মানুষ, ওকে বেঁধে রাখা যেত না। প্রায়ই সে উত্তেজিত হয়ে পড়ত, আমাকেও কতবার মারধর করেছে। কিন্তু আজ সে এমন সর্বনাশ করবে কল্পনাও করতে পারিনি।”
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আকাশ মোল্লা একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। তিনি পারিবারের সদস্যদের হত্যার পর স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ঢাকা/তামিম/মাসুদ
আপনার মতামত লিখুন :