
বগুড়ার শেরপুরে দাখিলের গণিত পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র, আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে নিয়মিত সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে ৫৮ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কেন্দ্রে রাজার দিঘি দাখিল মাদ্রাসার ১৩ জন, ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, চকসাদি দাখিল মাদ্রাসার ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার ৩ জনসহ মোট ২৯ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে ৮ নং কক্ষে আছমা খাতুন ও জুয়াইরিয়া সুলতানা এবং ৯ নং কক্ষে মামুনুর রশিদ দায়িত্বে ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষ পরিদর্শকরা নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণে ওলটপালট করে ফেলেন। ফলে নিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী অনিয়মিতদের প্রশ্নে এবং অনিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী নিয়মিতদের প্রশ্নে এমসিকিউ পরীক্ষা দেয়। পরে পরীক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী রিমু, আতিয়া ও সাদিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘আমরা নিয়মিত সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়েছে অনিয়মিতদের প্রশ্ন, যা সিলেবাসের বাইরে ছিল। পাস নম্বর তোলাও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের সারা বছরের কষ্ট ও স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে।’’
অভিভাবক আল আমিন ও ইসমাইল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বোর্ড পরীক্ষায় এমন ভুল মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে? তারা এখন আগামী পরীক্ষাগুলো দিতেও ভয় পাচ্ছে।’’
কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান এবং ট্যাগ অফিসার নাঈম হোসেন বিষয়টিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ হিসেবে দাবি করে জানান, পরীক্ষার সময় এটি কারো চোখে পড়েনি। রাতে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।’’
আপনার মতামত লিখুন :