Agaminews
Dr. Neem Hakim

শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ফুটেজে শনাক্ত হামলাকারী, গ্রে


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ /
শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ফুটেজে শনাক্ত হামলাকারী, গ্রে


রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) অন্তত ১০ জন সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। সংগৃহীত ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলায় জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সমিতি। ডুজা জানায়, এই হামলার আগের দিন বুধবারও (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকি দেন।

সমিতির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—ডুজার সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি (কালের কণ্ঠ), সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম (আগামীর সময়), নাইমুর রহমান ইমন (ডেইলি অবজারভার), খালিদ হাসান (দেশ রূপান্তর), সামশুদৌজা নবাব (ঢাকা ট্রিবিউন), মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত (ঢাকা মেইল), হারুন ইসলাম (নয়া দিগন্ত), সৌরভ ইসলাম (রাইজিংবিডি ডটকম) এবং আসাদুজ্জামান খান (মানবজমিন)সহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক।

সংগৃহীত ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে হামলায় জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন মাটিতে পড়ে থাকা সাংবাদিকদের লাথি মারছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ওই হলে ছাত্রদল সমর্থিত সহ-সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

একইভাবে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র সানিন সৈয়দকে মাটিতে পড়ে থাকা সাংবাদিকদের লাথি ও চড় মারতে দেখা যায়। তিনিও ওই হলে ছাত্রদল সমর্থিত কার্যকরী সদস্য প্রার্থী ছিলেন।

এছাড়া, অন্য ফুটেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ এবং সহ-সভাপতি সৈকত মোর্শেদকে সাংবাদিকদের ধাক্কা দেওয়া ও আঘাত করতে দেখা যায়। ইংলিশ ফর স্পিকারস অফ আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস (ইসল) বিভাগের ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী আশ শামসকেও ভিড়ের মধ্যে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতে দেখা গেছে।

হামলার সময় আরও কয়েকজনকে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমান উল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জোহিন ফেরদৌস জামি, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হাসান সাদ, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার এবং জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিজভী আলম। এদের মধ্যে জোহিন ফেরদৌস জামিকে হামলার পর এক সাংবাদিককে চেপে ধরে রাখতে দেখা যায়। আমান উল্লাহকে ঘটনাস্থলে জুবায়েরের পাশে দেখা গেলেও সরাসরি আঘাত করতে দেখা যায়নি। জুনায়েদ আবরারকে হামলার শুরুতেই আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

শনাক্ত ব্যক্তিদের বাইরে আরো চারজনকে হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে, যাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তারা ছাত্রদলের কর্মী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সরাসরি হামলায় অংশ না নিয়েও কয়েকজন ‘ইন্ধনদাতা’ উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি সহিংস করে তোলেন। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারি ইফাত জনতাকে উসকে দিয়ে হামলার সূচনা করেন। এছাড়া, সদস্য সচিব মনসুর রাফী, সূর্যসেন হলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ এবং কর্মী মোমিতুর রহমান পিয়াল ও কারিব চৌধুরীর বিরুদ্ধেও উসকানির অভিযোগ উঠেছে।





Source link

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর