Agaminews
Dr. Neem Hakim

পাহাড়ের কোলে ‌‘ঘুমন্ত’ হাইটেক পার্ক


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ / ১১
পাহাড়ের কোলে ‌‘ঘুমন্ত’ হাইটেক পার্ক


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক অবকাঠামো। ১৬৩ একর জমিজুড়ে ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্কের সুউচ্চ ভবন, প্রশস্ত রাস্তা, আর পরিকল্পিত প্লট সব মিলিয়ে চোখ ধাঁধানো পরিবেশ। তবে, ভেতরে গেলে মেলে শুধুই নিস্তব্ধতা। কোনো যন্ত্রের শব্দ নেই, কর্মীদের পদচারণা নেই। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির উদ্বোধন করা হয়। কথা ছিল, এই পার্ক হবে সিলেট অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত, ৫ হাজার মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার ঠিকানা। উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি।

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ১২টি জেলায় আইটি ও হাইটেক পার্ক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পরেও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ৩৬ শতাংশ। কোনো কোনো জেলায় অগ্রগতি আরো কম। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের এই পার্কের অবস্থা তার চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও কার্যত নিষ্প্রাণ। বিনিয়োগকারীরা জমি বরাদ্দ নিয়েছেন, কিন্তু কারখানা বা প্রযুক্তি উদ্যোগ শুরু করেননি। কারণ হিসেবে, বারবার উঠে আসছে অবকাঠামো সংকট, বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৩.৮ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার ১০ বর্গফুট স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতগুলো প্রতিষ্ঠান জমি ও স্পেস বরাদ্দ নেওয়ার পরও উৎপাদনে গেছে মাত্র একটি। আর সেই একটিও চলছে কোনো রকমে।

পার্কে কার্যক্রম চালানো একমাত্র প্রতিষ্ঠান র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের এজিএম মোরশেদ আলম বলেন, “হাইটেক কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছিল- নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ আর গ্যাস এই তিনটি সুবিধা সবসময় নির্বিঘ্নে পাব। এখন পর্যন্ত এই তিনটির কোনোটাই নির্বিচ্ছিন্নভাবে পাচ্ছি না। লাইনে গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদনকাজ চালাতে হচ্ছে সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে যা ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আয়ের থেকে এখানে ব্যয় বেশি হচ্ছে। সরকার যদি এগুলার দিকে নজর না দেন, তাহলে আমাদেরও বিকল্প পথ দেখতে হবে।”

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় সিলেটসহ চারটি জেলার হাইটেক পার্ক প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, তবে সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পার্কটি পরিদর্শন করেছেন। পার্কের বর্তমান অবস্থা দেখে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু তাগিদও দিয়েছেন।    

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসই) বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফরহাদ রাব্বি বলেন, “কেবল অবকাঠামো তৈরি করলেই হয় না, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আনতে হলে দরকার সুনির্দিষ্ট ও স্থানীয়ভাবে প্রযোজ্য নীতিমালা। সিলেটের হাইটেক পার্কের জন্য আলাদা নীতি থাকা দরকার। এই পার্কে আসলে কী অর্জন করতে চাই সেটা স্থানীয়ভাবে নির্ধারণ করে সরকার কাজ করতে পারে। কেবল অবকাঠামো তৈরি করে রেখে দিলে বিনিয়োগকারীরা আসবেন না- প্রয়োজন ট্যাক্স ছাড়, সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্থিতিশীল ইউটিলিটি সরবরাহের নিশ্চয়তা।”

সম্প্রতি পরিদর্শনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “পুরো বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান অবস্থা এবং এইগুলাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”  

এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। সিলেট হাইটেক পার্কের সহকারী পরিচালক এসএম আল মামুন বলেন, “হাইটেক পার্ক উন্নয়ন করার জন্য একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে কমিটি কর্তৃক সুপারিশ এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে কয়েকটি। এখন সেভাবেই কাজটা এগিয়ে যাচ্ছে।”





Source link

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর