
একই পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই ও এক পুত্রবধূ।
তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে চক্রটি প্রায় ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা নিজেদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করেছে। অথচ তাদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় করা মামলায় বলা হয়, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। বিশেষ করে একই পরিবারের তিন বোন, মোসা. আসমা, রেশমা খাতুন ও লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার, এই সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে কাজ করতেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
তদন্তে আরো উঠে এসেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো। এই কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় সহযোগীদেরও ব্যবহার করা হতো। মাদক বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে তা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সিআইডি জানায়, অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে অন্তত ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি অর্থের একটি অংশ পুনরায় মাদক কেনা এবং ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক ও অন্যান্য অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগমের বিরুদ্ধে ৭টি, মো. মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি এবং মোসা. আসমার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধেও এক বা একাধিক মামলা রয়েছে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, অবৈধ মাদক ব্যবসা এ অপরাধের সম্পৃক্ত উৎস অপরাধ হিসেবে গণ্য। বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলাটির তদন্ত করছে।
সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটির অন্যান্য অজ্ঞাত সদস্যদের শনাক্তসহ পুরো অপরাধচক্রের বিস্তারিত উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :