
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনা বর্জন করেছে ইরান। খবর আল-জাজিরার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানান, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্রমাগত লঙ্ঘন ও ইরানের ওপর মার্কিন হামলার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান। বিগত আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান অভিযোগ করেছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আলোচনা চলাকালীন আমাদের ওপর মার্কিন হামলার ক্ষত আমরা ভুলে যেতে পারি না।”
লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান বলছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র তা মানছে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আসলে আলোচনার বিষয়ে মোটেও সিরিয়াস নয়। তারা শুধু দোষারোপের খেলা খেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।”
গতকাল রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, তার প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে রয়েছে। সূত্রমতে, এই দলে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা ছিল। এমনকি আলোচনা ফলপ্রসূ হলে পরবর্তী ধাপে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল।
দুই বৈরী দেশের এই সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া ছাড়াও হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
ইরান বর্তমানে তাদের নিজেদের প্রস্তাবিত ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর অটল রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন বিশ্ববাসীর নজর ওয়াশিংটনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে।
আপনার মতামত লিখুন :