Agaminews
Dr. Neem Hakim

৫০ বছরের রাজনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না: মামুনুল হক


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ / ১১
৫০ বছরের রাজনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না: মামুনুল হক


গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা ক‌রেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি ব‌লে‌ছেন, “যারা ইসলামকে ভালোবাসে, বাংলাদেশকে ভালোবাসে তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে থাকতে পারে না। আমি আজকের ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বলতে চাই, আপনারা বাংলাদেশের ৫০ বছরের রাজনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না।”

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকে‌লে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খেলাফত মজলিস-বিকেএমের আ‌য়ো‌জিত গণসমাবেশে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল—আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ১৯৪৭ সাল, ২০১৩ সাল এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তির ওপর। আজ যারা মনে করেন, কেন বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও ইসলামপন্থীরা জুলাই বিপ্লবের পক্ষে কাফনের কাপড় বেঁধে রাজপথে নামতে চায়—আমি তাদের বলতে চাই, আমরা জুলাই বিপ্লবকে এজন্যই বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, এই জুলাই বিপ্লব ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের চেতনাকে ধারণ করে, ১৯২১ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীন জাতিসত্তাকে ধারণ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, ২০১৩ সালের শাপলার চেতনাকে ধারণ করে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ধারণ করে।”

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তি‌নি বলেন, “যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সাথে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে পূর্বে তিনটি গণভোট হয়েছে—কোনো গণভোটের সাথেই কেউ গাদ্দারি করেনি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই গণভোট হয়েছে, কোনো গণভোটের সাথেই কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। যদি বিএনপি গণভোটের সাথে গাদ্দারি করে, তাহলে বিএনপি বিশ্বের একমাত্র গাদ্দার দল হিসেবে পরিচিত হবে।”

বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশে প্রেরিত ভরতের নতুন রাষ্ট্রদূতকে পৃথিবীর সকল কূটনৈতিক রেওয়াজ ভঙ্গ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন বিজেপি নেতাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়েছে, অথচ এদেশের সরকার টু শব্দটুকু করেনি। বন্ধুরাষ্ট্র ইরান বন্ধুত্বের দায়িত্ব পালন করে তেল দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের কূটনীতির ব্যর্থতার কারণে বারবার সেই তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, আপনারা না পারলে আমাদেরকে দায়িত্ব দিন—আমরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।”

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান নৈরাজ্য সম্পর্কে ‌তি‌নি বলেন, “বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে এর দায় একমাত্র সরকারকেই বহন করতে হবে।”



জামায়া‌তের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজকে যে মঞ্চে আমরা দাঁড়িয়েছি, এই মঞ্চের সাথে দুটি জিনিস কখনো যাবে না—একটি হলো আধিপত্যবাদ এবং আরেকটি হলো ফ্যাসিবাদ।”

“এই দুইটিকে এই মঞ্চ কখনোই গ্রহণ করবে না, বরদাশতও করবে না। এই মঞ্চে যারা বসে আছেন, তারা জাতির স্বার্থে, দেশপ্রেম ধারণ করার কারণে জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন—আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। আফসোস, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পর যারা একসময় মজলুম ছিলেন, রাজপথে আন্দোলন করেছেন, সংগ্রাম করেছেন—তাদেরই একটি অংশ আজ সরকারে গিয়ে অতীতের সব কিছু ভুলে গেছেন।”

শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্ন নেতিবাচক বয়ান তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। নির্বাচনের আগে বলেছিলেন—আমরা নির্বাচিত সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাব। এখন আপনারা কী করছেন? একজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেকজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অন্য দেশে—আর আপনারা এ দেশে রাজত্ব করবেন।”

জুলাই আন্দোলনের দুটি স্লোগান ছিল—“দেশ কারো বাপের নয়।” আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শত শত আলেম-ওলামা জীবন দিয়েছেন এই দেশবাসীকে মুক্তির জন্য। আমরা সেই আলেম-ওলামাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। “যুবক ও শিশুদের কথা দিচ্ছি—আমরা তোমাদের সাথে বেইমানি করবো না। তোমাদের সকল দাবি বাস্তবায়নে আমরা অবিচল থাকবো, ইনশাআল্লাহ।”

মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বিকেএমের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, শায়খুল হাদীস মাওলানা আলী উসমান,  মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ময়মনসিংহ-২ এর সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ‌ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম,‌ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ।





Source link

Uncategorized বিভাগের আরো খবর

আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর